Bangla Kobita, Bengali Poems, Jokes, Story - বাংলা কবিতা, গল্প, কৌতুক পড়ুন এবং লিখুন


Bangla Kobita, Bengali Poems, Jokes, Story - বাংলা কবিতা, গল্প, কৌতুকের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বাংলা শিক্ষা ডট কম। জনপ্রিয় খ্যাতিমান কবিদের নানাবিধ বাংলা কবিতার একটি সংগ্রহশালা। এখানে জনপ্রিয় কবিদের হাজার হাজার বেঙ্গলি কবিতার [Bengali Poems] সংকলন রয়েছে , যা দিনকে দিন বাড়ছে। এছাড়াও এখানে মজার বাংলা জোকস [Bangla Jokes] , ছোট গল্প [Short Story], রচনা ইত্যাদির একটি বিশাল সংগ্রহ রয়েছে ।

আমাদের বাংলা কবিতা [Bangla Kobita] বৃহত্তর ফোরাম রয়েছে যেখানে আপনি কবিতা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এর পাশাপাশি বাংলা কবিতা, আবৃত্তি [Recitation] প্রকাশের [Publish] সুযোগ রয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য নতুন লেখক এবং লেখিকাদের লেখা প্রকাশের একটা মাধ্যম তৈরী করা। আপনার লেখা প্রকাশ করুন।

আমাদের দেশে এবং সারা পৃথিবী জুড়ে হাজার হাজার কবিরা রয়েছেন , যারা শুধু বাংলা নয় , নানা ভাষায় কবিতা লিখেছেন , তাদের কবিতার ডালি আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ। আজ ইন্টারনেটের সুবিধার্তে কবিতা এখন হাতের মুঠোয়। কত বিখ্যাত , অবিখ্যাত কবির কবিতা আমরা শুনতে পাই।

Best Poem of the Week - সপ্তাহের সেরা কবিতা

Bangla Kobita Collection - আমাদের সংগ্রহ


জীবনমুখী কবিতাদুঃখের কবিতাপ্রেমের কবিতাজনপ্রিয় কবিতাছড়া কবিতা
TitleAuthor
TitleAuthor
TitleAuthor
TitleAuthor
TitleAuthor

সাম্প্রতিক সংযোজন

অনুরোধ – অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী

আমি বলছি না আমাকে ভালোবাসতে
আমি বলছি একবার আমার কাছে আসো
তোমাকে দেখি
দেখে চোখ সার্থক করি।

আমি বলছি না আমাকে ভালোবাসতে
আমি বলছি একবার আমার কাছে আসো
তোমাকে আমার স্মৃতিতে ভরে নিই
যখন একা থাকব
তখন স্মৃতির ভাণ্ডার থেকে অন্য সবকিছু সরিয়ে তোমাকেই দেখব শুধু।

আমি বলছি না আমাকে ভালোবাসতে
আমি বলছি একবার আমার কাছে আসো
তোমাকে আমার মনের মানুষ করে নিই
তুমি আমায় নাই বা আপন করলে
কিন্তু আমার মনের মানুষ তো তুমিই হয়ে গেলে।

আমি বলছি না আমাকে ভালোবাসতে
আমি বলছি একবার আমার কাছে আসো
এই যে তোমাকে একবার দেখে নেব
আমার জীবন সমাপন হবে যেদিন
সেদিন পর্যন্ত তোমার হয়েই থাকব।

— অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
২/১১/২০২৫

যখন ভুল ভাঙল – অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী

সেই এলে অথচ কত দেরি করে

সেই তোমার ভুল ভাঙল অথচ কত দেরি করে।
কেন আগে এলে না?
আমি তোমায় বলেছিলাম এসব ভুল বোঝাবুঝি
তুমি শোনোনি
চলে গেছিলে
আর আজ যখন ভুল ভাঙল চলে এলে
এসে কী দেখছ
আমি নেই
আমার ছবি ধরে কাঁদছ।
এখন তুমি যতটা কষ্ট পাচ্ছ তার চেয়েও শতগুণ কষ্ট
পেয়েছিলাম আমি সেদিন
যেদিন তুমি চলে গেছিলে ভুল বুঝে….
সেই দুঃখ কষ্ট বেশি দিন না সহ্য করতে পেরে
বিদায় নিয়েছিলাম পৃথিবী থেকে।

অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
৯/১/২০২৬

বন্দিশালায় বিদ্রোহী আমি

স্মৃতির বন্দিশালায় বিদ্রোহী আমি

লেখকঃ সাদ্দাম হোসেন

আমি এখনো তাকে ভালোবাসি,

তাই কোনো প্ল্যানে তাকে রাখিনি।

সে আমাকে হাজার প্ল্যানে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে,

তবুও আমার মনে তার জন্যই জায়গা ছিল।

ভালোবাসা যখন জানালা দিয়ে পালাতে চায়,

তখন আমিও সিদ্ধান্তের প্ল্যানে জড়িয়ে যাই।

আমি জানি, কোনো পিছুটান আর আমাকে আটকাতে পারবে না।

আমার এই পরিকল্পনা হয়তো সামান্য ক্ষতির মতো দেখায়,

কিন্তু তার ব্যথা সারাজীবনের জন্য ভয়ানক।

তবুও আমাকে মেনে নিতে হবে—

সাময়িক বন্দিশালা কোনো ব্যাপার না।

তার জন্য আমি সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত…

ভালোবাসার শেষ প্রহর পর্যন্ত।

কলমের কালিতে লেখা জীবন

#কলমের #কালিতে #লেখা #জীবন

গ্রামের নাম ছিল শালবনপুর। খুব বড় গ্রাম নয়, আবার খুব ছোটও নয়। এই গ্রামেই জন্ম নিয়েছিল ছেলেটি—নাম তার রাশেদ। জন্মের পর থেকেই অভাব যেন তার সঙ্গে লেগেই ছিল। মাটির ঘর, টিনের চাল, বর্ষাকালে চুইয়ে পড়া পানি—এসবই ছিল তার শৈশবের চেনা দৃশ্য।

রাশেদের বাবা, আব্দুল করিম, ছিলেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। বেতন অল্প, কিন্তু সম্মান ছিল অগাধ। গ্রামে কেউ কোনো চিঠি লিখতে পারত না, দরখাস্ত করতে পারত না—সবাই ছুটে যেত করিম মাস্টারের কাছে। তিনি কখনো কাউকে ফিরিয়ে দিতেন না।

করিম মাস্টারের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল একটি পুরোনো কলম। কালো রঙের, একটু বাঁকা নিভ, বহুদিনের ব্যবহারে রঙ উঠে গেছে। এই কলম দিয়েই তিনি ছাত্রদের পড়াতেন, দরখাস্ত লিখতেন, আবার রাতে বসে নিজের ডায়েরিতে কিছু না কিছু লিখতেন।

একদিন ছোট রাশেদ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,

—“আব্বা, এই কলমটা তুমি এত যত্ন করে রাখো কেন?”

বাবা মৃদু হেসে বলেছিলেন,

—“বাবা, এই কলম দিয়েই আমি মানুষ গড়ি। টাকার জোরে নয়, কলমের জোরেই দুনিয়া বদলায়।”

তখন রাশেদ এসব কথা ভালো করে বুঝত না। তার চোখে তখন কলম মানে শুধু লেখার জিনিস। কিন্তু বাবার চোখে কলম ছিল শক্তি, অস্ত্র, আলো।

সময় গড়িয়ে গেল। রাশেদ বড় হতে লাগল। পড়াশোনায় সে খুব মেধাবী ছিল না, আবার খারাপও না। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন হয়ে পড়ল। অনেক সময় খালি পেটে স্কুলে যেতে হতো। বন্ধুদের নতুন ব্যাগ, নতুন জুতো দেখে তার মনে হতো—এই জীবন বুঝি শুধু কষ্টের জন্যই লেখা।

হঠাৎ একদিন করিম মাস্টার মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লেন। গ্রামের ডাক্তার বললেন, শহরে নিতে হবে। কিন্তু শহরের চিকিৎসা মানেই অনেক টাকা। সেই টাকা তাদের ছিল না। ধারদেনা করেও বেশি দূর এগোনো গেল না।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই করিম মাস্টার পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন।

বাবার মৃত্যু রাশেদের জীবনে যেন সব আলো নিভিয়ে দিল। সংসারে রোজগার করার কেউ রইল না। পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেল। মাকে আর ছোট বোনকে বাঁচানোর দায়িত্ব পড়ল তার কাঁধে।

সে কাজ নিল নির্মাণস্থলে। রোদে পুড়ে, ইট বয়ে দিন কাটাতে লাগল। সন্ধ্যায় আবার চা-দোকানে কাজ। ক্লান্ত শরীর, ফাটা হাত—তবু সে অভিযোগ করত না।

একদিন মায়ের হাতে বাবার জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে রাশেদ সেই পুরোনো কলমটি খুঁজে পেল। কলমটি হাতে নিয়ে তার চোখ ভিজে উঠল। বাবার গন্ধ, বাবার স্মৃতি—সব যেন কলমের সঙ্গে মিশে ছিল।

সেই রাত থেকেই রাশেদ নতুন করে কলম ধরল। পুরোনো খাতার পেছনের পাতায় সে লিখতে শুরু করল—নিজের জীবনের কথা, কষ্টের কথা, বাবার কথা, গ্রামের মানুষের কথা। সে জানত না সে ভালো লেখে কি না, শুধু জানত লিখলে মন হালকা হয়।

দিনের পর দিন এভাবেই চলতে লাগল। একদিন চা-দোকানে বসে সে খবরের কাগজে একটি বিজ্ঞাপন দেখল—

“জাতীয় সাহিত্য প্রতিযোগিতা

বিষয়: কলম ও জীবন

প্রথম পুরস্কার: শিক্ষাবৃত্তি ও নগর কলেজে ভর্তির সুযোগ”

রাশেদের বুক ধড়ফড় করে উঠল। তার মতো একজন শ্রমিক, যার পড়াশোনাই অসম্পূর্ণ—সে কি এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে?

সারারাত সে ঘুমাতে পারল না। বাবার কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল—

“কলম কখনো গরিব হয় না।”

পরদিন কাজ শেষে সে কলম আর খাতা নিয়ে বসে পড়ল। বিদ্যুৎ ছিল না। কুপির ক্ষীণ আলোতে সে লেখা শুরু করল। লিখল নিজের জীবনের গল্প, বাবার আদর্শ, কলমের শক্তি, সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমের প্রতিবাদ।

লেখার মাঝে মাঝে তার চোখে জল আসছিল। কলমের কালি ফুরিয়ে আসছিল, কিন্তু সে থামেনি। মনে হচ্ছিল—এই কলমের ভেতর দিয়ে বাবাই যেন তার হাত ধরে লিখছেন।

তিন রাত, চার রাত—শেষমেশ লেখা শেষ হলো।

সে লেখা পাঠিয়ে দিল। এরপর শুরু হলো অপেক্ষা। প্রতিদিন ডাকপিয়নের দিকে তাকিয়ে থাকত রাশেদ। মনে মনে ভাবত—হয়তো কিছুই হবে না, তবু চেষ্টা তো করেছিল।

একদিন দুপুরে ডাকপিয়ন এসে একটি খাম দিল। খাম খুলে পড়তেই রাশেদের চোখ ছলছল করে উঠল।

সে জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

গ্রাম যেন উৎসবে মেতে উঠল। সবাই অবাক—একজন শ্রমিক, অথচ দেশের সেরা লেখা! সংবাদপত্রে খবর ছাপা হলো—

“কলম বদলে দিল এক গরিব ছেলের জীবন”

রাশেদ শহরে পড়তে গেল। ধীরে ধীরে সে একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক হয়ে উঠল। তার লেখায় উঠে আসত গ্রামের কথা, শ্রমিকের কষ্ট, শিক্ষার আলো।

আজ বহু বছর পর, বড় এক সাহিত্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছে রাশেদ। বক্তৃতার শেষে সে পকেট থেকে বের করল সেই পুরোনো কলমটি।

সে বলল,

—“এই কলম আমাকে শুধু লেখক বানায়নি, মানুষ বানিয়েছে। কলম যদি সঠিক হাতে থাকে, তবে সে ভাগ্যও বদলাতে পারে।”

হলভর্তি মানুষ দাঁড়িয়ে করতালি দিল।

কলমটি আজও পুরোনো, নিভ একটু বাঁকা—

কিন্তু তার কালিতে লেখা আছে এক জীবনের ইতিহাস।

মাটির সন্তান

আমি এই মাটিরই গন্ধে বড় হওয়া মানুষ,

নদীর স্রোতে ভেসে আসা আমার পূর্বপুরুষের নিঃশ্বাস।

ব্রহ্মপুত্রের ঢেউয়ে লেখা আছে আমার নাম,

এই আকাশই আমার স্বপ্নের ছাদ।

 

তুমি আমাকে নামে ডাকো, অপমানে ঠেলো,

কিন্তু ইতিহাসে আমার শ্রমের ঘাম শুকায়নি।

চরের বালিতে ফসল ফলিয়েছি আমি,

বন্যার জলে ভেসেও দাঁড়িয়ে থেকেছি অবিচল।

 

আমি মিয়া—এই শব্দে লুকায় না লজ্জা,

লুকিয়ে আছে সংগ্রাম, বেঁচে থাকার গান।

ভাষা আমার ভিন্ন হতে পারে,

কিন্তু হৃদয়ের ধ্বনি এই অসমের সাথেই বাঁধা।

 

তোমার ঘৃণা আমার পরিচয় বদলাতে পারে না,

কারণ মাটি আমাকে চিনে, নদী আমাকে চেনে।

যে বাতাসে তুমি শ্বাস নাও,

সেই বাতাসেই আমার শিশুরা বড় হয়।

 

অপমানের শব্দ যখন কানে বাজে,

আমি মনে করি ধানের শীষের নীরব শক্তি।

মাথা নত নয়, মাথা উঁচু করেই বাঁচি,

কারণ আত্মসম্মানই আমার আসল পরিচয়।

 

আমরা কারও শত্রু নই, কারও বোঝা নই,

আমরা এই ভূমিরই পরিশ্রমী সন্তান।

বিভেদের দেয়াল যতই উঁচু হোক,

মানবতার পথ ততই প্রশস্ত হবে।

 

তোমার তিরস্কার আমার গান থামাতে পারবে না,

আমার কণ্ঠে থাকবে সত্যের দৃঢ়তা।

আমি মিয়া, আমি অসমীয়া, আমি মানুষ—

এই তিন শব্দেই আমার গৌরব।

 

একদিন ঘৃণার বদলে হাত বাড়বে,

আর তখন তুমি দেখবে—আমরা সবাই একই মাটির।

কারো হৃদয়ে আছি – পাপন বসুনিয়া

কারো হৃদয়ে বসে আছি—

নিঃশব্দে, ভাড়াটিয়ার মতো,

কোনো দাবি নেই,

তবু ছাড়ার কথাও উঠছে না।

 

এই বসে থাকা

কোনো উৎসব নয়,

বরং বিকেলের ছায়ার মতো—

আছে, অথচ চোখে পড়ে না।

 

হৃদয়ের ভেতরে

একটা বাতাস বইছে—

সেখানে আমার নিঃশ্বাস

অচেনা হয়ে যাচ্ছে ধীরে।

 

আমি জানি,

এই থাকা অনিশ্চিত—

ঠিক যেমন নদীর ধারে

বালি জমে, আবার সরে যায়।

 

তবু এই মুহূর্তে

আমি আছি—

এটাই যথেষ্ট—

বাকি সব প্রশ্ন পরে।

আঁধারে থাকা ভালো মানুষ – স্নিগ্ধজীৎ পাল

কেমনই এই এক দুনিয়া,

ভালো মানুষ আঁধারে রহে,

সাড়া জগৎ জুড়িয়া।

 

অসৎ জনে ভালো সাজিয়া,

লহে দুনিয়ার চাবি,

তাহার জোয়ারে নুয়ে পড়ে যায়

সৎ মানুষের দাবি।

 

টানা ঝড় এই জীবনের পথে,

সইছে শুধু অপমান,

অন্য জনে তাহারি শ্রমের

শুনিছে গুণগান।

 

শ্রমের বাজারে মূল্য থাকিলেও,

নেই তার মর্যাদা,

কেমন এ দুনিয়া?

এ কেমন শাহজাদা?

 

ঘরে বাইরে খাদ্যাভাবে,

করিছে অর্থ ধার,

ক্ষুদ্র বেতনে জীবন চলে—

চলিবে না সংসার।

 

তবু সৎ জন থামে না আজও,

বুকে জ্বলে আলো,

অন্যায় যত শক্তই হোক,

সত্য হার মানে কালও।

 

ওগো জননী

মন চায় তোমায় দেখতে মা 

তুমি তো আমার কাছে না

কেন গেলে চলে তুমি মা

তোমায় ছাড়া  জীবন  চলে না

কেন গেলে চলে বল তুমি মা

কখন ও কী আসবে তুমি  

তাও জানিনা 

কেমন আছি কেমন রয়েছি  

দেখবে না বুঝি 

কখন  তা

চলছে  সময় যাচ্ছে  দিন 

আমি  বসে বসে ভাবছি খালি

কবে আসবে তোমার 

ছাহনির দিন

সময় যাচ্ছে  যাচ্ছে  দিন 

কখনো কী কাটবে না

আমার অপেক্ষার দিন

মনে মনে ভাবি কাটবে কাটবে দিন

কথায় তো আছে 

খারাপের পর আসবে তো 

সুখের দিন 

তবুও হলোনা পাওয়া

আমি খুঁজেছি তোমায় প্রতি পথে পথে

আমি দেখেছি তোমায় প্রতি পদে পদে

ওহে নিঠুর কঠোর পাষাণ হৃদি দেখিলিনা তুই মোরে 

আমি কত চাইলাম কত কাদিলাম চিনিলিনা তুই মোরে

ওহে গত জনমের কত পাপ মোর জমেছিল বল দেখি

আমার সোধ হলো কতটা, কতটা রহিল বাকি

আর কত জনম এ পৃথক পথিক চেয়ে রবে প্রতি পদে

কবে নয়ন মুদে মৃদু হেসে হৃদি ভাসিবে উল্লাসে।

ছড়া। খোকার বায়না – জয়সেন চাকমা

আমার খোকা বায়না ধরছে

নানির বাড়ি যাবে,

শীত সকালে ঘুম ভেঙে সে

নানান পিঠা খাবে।

ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা

আরও কত কিছু,

খোকা আমার দুষ্টু ভীষণ

আমার ছোট্ট শিশু।

রচনাকাল: ১৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছড়া। ভোরের প্রকৃতি – জয়সেন চাকমা

ভোরের পাখি উঠল জেগে,

ধরল এখন গান।

অবুঝ শিশু হাসছে দেখো,

মুগ্ধতায় তার প্রাণ।

 

খেলা করে ময়না–টিয়া,

গাছের ডালে বসে।

শীত এসেছে খেজুর গাছে,

ভরছে কলসি রসে।

 

দীঘির জলে শাপলা হাসে,

রঙের বাহার মেখে।

আমার খোকা খুশি বেশ,

খাতায় ছবি এঁকে।

 

ফুলের উপর বসছে দেখো,

রঙিন প্রজাপতি,

তারই আছে অনেক চোখ,

তাই তো অনেক জ্যোতি।

এই মাটির নেই পরাজয়

যুগযুগ ধরে বাংলার মাটি

বহি শকুনের নখ দর্পণে

রক্তে ভিজেছে লাখো শহীদদের,

হয়েছে ভারী শত লুণ্ঠনে।

 

শৃঙ্খল এসেছে নানা সংগ্রামে,

শাসন বদলেছে,বদলায়নি রূপ।

ক্ষুধার থাবা, ভয়ের ছায়া—

প্রতিবাদে কখনো থাকেনি চুপ।

 

পুড়েছে ঘর, নিভেছে প্রদীপ,

কেঁপেছে ভূমি, কেঁদেছে নদী,

তবু ছাইয়ের ভেতর থেকেই 

জ্বলে উঠেছে হাজারো হাদী ।

 

সবাই জানে ইতিহাসের পাতায় 

এই মাটির নেই পরাজয়,

শকুন যতই উরুক আকাশে

পারবে

না কখনো দেশের লয়।

💔 বেদনা 💔 – পার্থ বসু

তুমি দিও মোরে বেদনা যে, নয় ভালবাসা,,

বেদনায় ই পেয়েছি আমি কবিতার ভাষা।

স্মৃতি গুলো বেদনা যে আজ মনে জাগে,,

বেদনা যে আজ তাই খুব ভালো লাগে।,,

কারো প্রেমের বেদনা যদি নাহি থাকে মনে,

তবে প্রেমের অনুভূতি তার হবে কেমনে?।

লাগতো কি ভালো এই দিনের যে আলো?,

যদি থাকত না কভু ঐ রাতের সে কালো।

দেখো আলোয় আলোয় যদি ভুবন ভরায়,

বলো প্রদীপের মূল্য কি হতো এ ধারায়?

এই বেদনা যে হৃদয়ে যাক আজ থেকে,

এই আঁখি জল বয়ে যাক নদী হয়ে বেঁকে।

প্রেমের বেদনায় ও আছে মধু,কথা নয় ভুল,,

বলো কাঁটা ছাড়া হয় কভু গোলাপের ফুল?।

কাঁটায় ক্ষত আজি তাই পাপড়ি তে রক্তের দাগ,

এই বেদনাতে ই থাক আজ মোর সব অনুরাগ।

বেসনা আমায় ভালো শুধু বেদনা যে দিও,,

আজ যত আছে ভালবাসা সব তুমি নিও।

ভালবাসা সব নিও তার রেখো না তো শেষ,,

পারো যদি বেদনা টা তুমি রেখো অবশেষ।

আজও ফুল মালা হয়ে জ্বালা গলে কেন রয়?,

কেনো প্রেমের ফাগুন আজি বেদনা সে বয়।

এই প্রেমের বেদনা মনে যাক থেকে যাক,,

আজ কলম ঐ কবিতার ভাষা খুঁজে পাক

লজ্জা – পার্থ বসু

দেশ স্বাধীনের স্বপ্ন চোখে 

শহীদ হলো যারা,

এমন হবে আমার এ দেশ 

জানত কি আর তারা?।

জানত কি আর রক্তে গড়া 

তাদের সোনার দেশে,

দেশদ্রোহী লড়বে ভোটে 

জন নেতার বেশে।

তারা জানত কি আর এমন 

কথা,এমন কথা হায়!

নেতা হলেই সাত পুরুষে 

বসে খাওয়া যায়।

তারা জানত কি আর গণ তন্ত্রে

এমন ও যে হবে!

নেতার বেটা বেটি সবই 

নেতা হয়ে ই রবে।

তারা জানত কি আর এমন 

করে, করবে নেতা ঢঙ!

জেল খেটে যে নেতা এসে

দেবে সততার ঐ জ্ঞান।

তারা জানত কি দেশ স্বাধীন

হলে,দেশের জনতা,

ঘোমটা পরে খেমটা নাচন 

দেখায় ক্ষমতা।

তারা জানত যে এই দেশের 

মানুষ সোনার মত খাটি,

তাই স্বাধীন দেশের লক্ষে 

তাদের রক্তে ভেজা মাটি।

আজ যদি তারা জানতে যে চায়

দেশের কথা, উত্তরে কি কবে?, 

আজ দেশের এমন পরিস্থিতি 

লজ্জা তুমি পাবে?।।

Bangla Deshattobodhok Kobita - দেশাত্মবোধক কবিতা


অতি প্রাচীন কাল থেকে নানা মুনি, ঋষি ও মহাপুরুষ -রা নানা কবিতা লিখে গেছেন। কেউ লিখেছেন প্রকৃতি নিয়ে কবিতা, কেউ লিখেছেন যুদ্ধের আবার কেউ ভালোবাসার। অনেক কবি আছেন যাদের কবিতার মাধ্যমে আমরা ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের নানা ঘটনা জানতে পারি। বিস্তারিত ...

Adhunik Bangla Kobita - আধুনিক কবিতা


জনপ্রিয় কবির লেখা নির্বাচন করে হুবহু বলার সাথে সাথে শুদ্ধ উচ্চারণ,স্পষ্ট বাচনভঙ্গি এবং সুললিত কন্ঠস্বরের মাধ্যমে কবিতা বা ছড়ার ভাববিষয় শ্রোতার নিকট উপস্থাপিত করাই হল আবৃত্তি। শিল্প-সাহিত্যের আঙিনাতে আবৃত্তির প্রবেশাধিকার বহুদিন আগে থেকেই। সাহিত্যের একটি প্রাচীনতম শাখা হচ্ছে কবিতা। বর্তমান সময়ে সাহিত্য জগতে শিল্প-সংস্কৃতিতে আধুনিক কবিতার মান/খ্যাতি দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিস্তারিত ...

Bangla Chora Kobita - ছড়া কবিতা


কবিতা শব্দটি শুনলেই মনের মধ্যে আনন্দ জেগে উঠে। ছন্দের সাহায্যে অথবা গদ্যের ভাষায় মনের ভাব ফুটিয়ে তোলাই হল কবিতা। ছোট থেকে বড়ো সবাই কবিতা পাঠ করতে ও শুনতে ভালোবাসেন। ছোট বাচ্চা কিন্তু কথা শেখার পর ছোট ছোট ছড়া প্রথম শেখে, এই ছড়াই কিন্তু কবিতার আর এক রূপ। বিস্তারিত ...

Bangla Sad Poem - দুঃখের কবিতা


আমরা শুধু মনের আনন্দে কবিতা পড়ি বা লিখি তা নয়, মনের দুঃখও কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করি। দুঃখের কবিতা (Sad Kobita) মানুষের দুঃখ কষ্টকে কেন্দ্র করে লেখা হয়। যেমন পৃথিবীতে এমন কোনও মানুষ নেই যে জীবনে কোনো দিনও দুঃখ পাইনি, তেমন দুঃখ ছাড়া কেউ কবি হতে পারে না। বিস্তারিত ...

Bangla Popular Kobita - জনপ্রিয় কবিতা


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গান , ছবি, গল্প, উপন্যাস ও কবিতা সবই লিখেছেন । কিন্তু তিনি জগৎ বিখ্যাত বিশ্বকবি নামে পরিচিত অথার্ৎ এখানেও কবিতার জয় জয় কার। কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতার মাধ্যমে বিদ্রোহকে আহ্বান জানিয়েছিলেন , আজ তাই তিনি বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত। বিস্তারিত ...

Bangla Premer Kobita - ভালোবাসার কবিতা


প্রেমের কবিতা (Premer Kobita) অর্থাৎ যে কবিতার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রেম ভালোবাসাকে উদ্দেশ্য করে লেখা। প্রেমের মধ্যে রয়েছে ভালোবাসা এই জন্য প্রেমের কবিতাকে ভালোবাসার কবিতা (Love Poem) বলা হয়। বিস্তারিত ...