Sukanta Bhattacharya Kobita ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতা

সুকান্ত ভট্টাচার্য জীবনী, এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য বিখ্যাত কবিতা (Sukanta Bhattacharya Kobita) সমূহ গুলো নিচে দেওয়া হলো। All the selected poems of sukanta bhattacharya in bengali are listed below.

সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)
উৎস: উইকিপিডিয়া

সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৫ আগস্ট ১৯২৬ সালে কলিকাতার কালীঘাটের ৪৩, মহিম হালদার স্ট্রীটের মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি প্রথম ম্যালেরিয়া ও পরে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে, ১৯৪৭ সালে ১৩ই মে মাত্র ২১ বছর বয়সে কলকাতার ১১৯ লাউডট স্ট্রীটের রেড এড কিওর হোমে মৃত্যুবরণ করেন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যে প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি এবং মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-এর নাম – ছাড়পত্র(১৯৪৭), পূর্বাভাস(১৯৫০), ঘুম নেই(১৯৫০) ইত্যাদি।

কবিতা

Title

সুকান্ত ভট্টাচার্য -এর কবিতা সমূহ (Sukanta Bhattacharya Kobita)

Protidondi (প্রতিদ্বন্দ্বী) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) প্রতিদ্বন্দ্বী (Protidondi)

গন্ধ এনেছে তীব্র নেশায়, ফেনিল মদির,
জোয়ার কি এল রক্ত নদীর?
নইলে কখনো নিস্তার নেই বন্দীশালায়।
সচারাচর কি সামনা সামনি ধূর্ত পালায়?
কাজ নেই আর বল্লাল সেন-ই আমলে,
মুক্তি পেয়েছি ধোঁয়াতে নিবিড় শ্যামলে,
তোমাতে আমাতে চিরদিন চলে দ্বন্দ্ব।
ঠাণ্ডা হাওয়ায় তীব্র বাঁশির ছন্দ।
মনেরে জাগায় সাবধান হুঁশিয়ার।
খুঁজে নিতে হবে পুরাতন হাতিয়ার
পাণ্ডুর পৃথিবীতে।
আফিঙের ঘোর মেরু-বর্জিত শীতে
বিষাক্ত আর শিথিল আবেষ্টনে
তোমারে স্মরিছে মনে।
সন্ধান করে নিত্য নিভৃত রাতে
প্রতিদ্বন্দ্বী, -উচ্ছল মদিরাতে।।

   (পূর্বাভাস কাব্যগ্রন্থ)

প্রতিদ্বন্দ্বী (Protidondi) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Rabindranath Er Proti (রবীন্দ্রনাথের প্রতি) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) রবীন্দ্রনাথের প্রতি (Rabindranath Er Proti)

এখনো আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি,
প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্ততা ছড়ায় যথারীতি,
এখনো তোমার গানে সহসা উদ্বেল হয়ে উঠি,
নির্ভয়ে উপেক্ষা করি জঠরের নিঃশব্দ ভ্রূকুটি;
এখনো প্রাণের স্তরে স্তরে,
তোমার দানের মাটি সোনার ফসল তুলে ধরে।
এখনো স্বগত ভাবাবেগে,
মনের গভীর অন্ধকারে তোমার সৃষ্টিরা থাকে জেগে।
তবুও ক্ষুধিত দিন ক্রমশ সম্রাজ্য গড়ে তোলে,
গোপনে লাঞ্ছিত হই হানাদারী মৃত্যুর কবলে;
যদিও রক্তাক্ত দিন, তবু দৃপ্ত তোমার সৃষ্টিকে
এখনো প্রতিষ্ঠা করি আমার মনের দিকে দিকে।

তবুও নিশ্চিত উপবাস
আমার মনের প্রান্তে নিয়ত ছড়ায় দীর্ঘশ্বাস-
আমি এক দুর্ভিক্ষের কবি
প্রত্যহ দুঃস্বপ্ন দেখি, মৃত্যুর সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
আমার বসন্ত কাটে খাদ্যের সারিতে প্রতীক্ষায়,
আমার বিনিদ্র রাতে সতর্ক সাইরেন ডেকে যায়,
আমার রোমাঞ্চ লাগে অযথা নিষ্ঠুর রক্তপাতে,
আমার বিস্ময় জাগে নিষ্ঠুর শৃঙ্খল দুই হাতে।

তাই আজ আমারো বিশ্বাস,
'শান্তির লালিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস।'
তাই আমি চেয়ে দেখি প্রতিজ্ঞা প্রস্তুত ঘরে ঘরে,
দানবের সাথে আজ সংগ্রামের তরে।।

রবীন্দ্রনাথের প্রতি (Rabindranath Er Proti) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Satru Ek (শত্রু এক) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) শত্রু এক (Satru Ek )

এদেশ বিপন্ন আজ; জানি আজ নিরন্ন জীবন-
মৃত্যুরা প্রত্যহ সঙ্গী, নিয়ত শত্রুর আক্রমণ
রক্তের আল্পনা আঁকে, কানে বাজে আর্তনাদ সুর;
তবুও সুদৃঢ় আমি, আমি এক ক্ষুধিত মজুর
আমার সম্মুখে আজ এক শত্রুঃ এক লাল পথ,
শত্রুর আঘাত আর বুভুক্ষায় উদ্দীপ্ত শপথ।
কঠিন প্রতিজ্ঞা-স্তব্ধ আমাদের দৃপ্ত কারখানায়,
প্রত্যেক নির্বাক যন্ত্র প্রতিরোধ সংকল্প জানায়।
আমার হাতের স্পর্শে প্রতিদিন যন্ত্রের গর্জন
স্মরণ করায় পণ; অবসাদ দিই বিসর্জন।
বিক্ষুব্ধ যন্ত্রের বুকে প্রতিদিন যে যুদ্ধ ঘোষণা,
সে যুদ্ধ আমার যুদ্ধ, তারই পথে স্তব্ধ দিন গোনা।
অদূর দিগন্ত আসে ক্ষিপ্র দিন, জয়োন্মত্ত পাখা-
আমার দৃষ্টিতে লাল প্রতিবিম্ব মুক্তির পতাকা।
আমার বেগান্ধ হাত, অবিরাম যন্ত্রের প্রসব
প্রচুর প্রচুর সৃস্টি, শেষ বজ্র সৃষ্টির উৎসব।।

শত্রু এক (Satru Ek) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Ajikar Din Kete Jay (আজিকার দিন কেটে যায়) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) আজিকার দিন কেটে যায় (Ajikar Din Kete Jay)

আজিকার দিন কেটে যায়,—
অনলস মধ্যাহ্ন বেলায়
যাহার অক্ষয় মূর্তি পেয়েছিনু খুঁজে
তারি পানে চেয়ে আছি চক্ষু বুজে৷
আমি সেই ধনুর্ধর যার শরাসনে
অস্ত্র নাই, দীপ্তি মনে মনে,
দিগন্তের স্তিমিত আলোকে
পূজা চলে অনিত্যের বহ্নিময় স্রোতে৷
চলমান নির্বিরোধ ডাক,
আজিকে অন্তর হতে চিরমুক্তি পাক৷
কঠিন প্রস্তরমূর্তি ভেঙে যাবে যবে
সেই দিন আমাদের অস্ত্র তার কোষমুক্ত হবে৷
সুতরাং রুদ্ধতায় আজিকার দিন
হোক মুক্তিহীন৷
প্রথম বাঁশির স্ফূর্তি গুপ্ত উৎস হতে
জীবন‍–সিন্ধুর বুকে আন্তরিক পোতে
আজিও পায় নি পথ তাই
আমার রুদ্রের পূজা নগণ্য প্রথাই
তবুও আগত দিন ব্যগ্র হয়ে বারংবার চায়
আজিকার দিন কেটে যায়॥

এই কবিতাটি ভূপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ‘সুকান্ত-প্রসঙ্গ’ প্রবন্ধ থেকে সংগৃহীত। পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় নি। এটি ১৯৪০-এর আগের রচনা।

আজিকার দিন কেটে যায় (Ajikar Din Kete Jay) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Porichoy (পরিচয়) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) পরিচয় (Porichoy)

ও পাড়ার শ্যাম রায়
কাছে পেলে কামড়ায়
এমনি সে পালোয়ান,
একদিন দুপুরে
ডেকে বলে গুপুরে
‘এক্ষুনি আলো আন্’৷
কী বিপদ তা হ’লে
মার খাব আমরা?
দিলে পরে উত্তর
রেগে বলে ‘দুত্তর,
যত সব দামড়া’৷
কেঁদে বলি, শ্রীপদে
বাঁচাও এ বিপদে—
অক্ষম আমাদের৷
হেসে বলে শাম-দা
নিয়ে আয় রামদা
ধুবড়ির রামাদের॥

‘পরিচয়’ ছড়াটির রচনাকাল ১৯৩৯-৪০ সাল বলে মনে হয়৷

পরিচয় (Porichoy) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Sipahi Bidroho (সিপাহী বিদ্রোহ) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) সিপাহী বিদ্রোহ (Sipahi Bidroho)

হঠাৎ দেশে উঠল আওয়াজ- “হো-হো, হো-হো, হো-হো”
চমকে সবাই তাকিয়ে দেখে- সিপাহী বিদ্রোহ!
আগুন হয়ে সারাটা দেশ ফেটে পড়ল রাগে,
ছেলে বুড়ো জেগে উঠল নব্বই সন আগেঃ
একশো বছর গোলামিতে সবাই তখন ক্ষিপ্ত,
বিদেশীদের রক্ত পেলে তবেই হবে তৃপ্ত!
নানাসাহেব, তাঁতিয়াটোপি, ঝাঁসীর রাণী লক্ষ্মী-
সবার হাতে অস্ত্র, নাচে বনের পশু-পক্ষী।
কেবল ধনী, জমিদার, আর আগের রাজার ভক্ত
যোগ দিল, তা নয়কো, দিল গরীবেরাও রক্ত!
সবাই জীবন তুচ্ছ করে, মুসলমান ও হিন্দু,
সবাই দিতে রাজি তাদের প্রতি রক্তবিন্দু;
ইতিহাসের পাতায় তোমরা পড় কেবল মিথ্যে,
বিদেশীরা ভুল বোঝাতে চায় তোমাদের চিত্তে।
অত্যাচারী নয়কো তারা, অত্যাচারীর মুণ্ডু
চেয়েছিল ফেলতে ছিঁড়ে জ্বালিয়ে অগ্নিকুণ্ডু।
নানা জাতের নানান সেপাই গরীব এবং মূর্খঃ
সবাই তারা বুঝেছিল অধীনতার দুঃখ;
তাইতো তারা স্বাধীনতার প্রথম লড়াই লড়তে
এগিয়েছিল, এগিয়েছিল মরণ বরণ করতে!

আজকে যখন স্বাধীন হবার শেষ লড়াইয়ের ডঙ্কা
উঠেছে বেজে, কোনোদিকেই নেইকো কোনো শঙ্কা;
জব্বলপুরে সেপাইদেরও উঠছে বেজে বাদ্য
নতুন ক’রে বিদ্রোহ আজ, কেউ নয়কো বাধ্য,
তখন এঁদের স্মরণ করো, স্মরণ করো নিত্য-
এঁদের নামে, এঁদের পণে শানিয়ে তোলো চিত্ত।
নানাসাহেব, তাঁতিয়াটোপি, ঝাঁসীর রাণী লক্ষ্মী,
এঁদের নামে, দৃপ্ত কিশোর, খুলবে তোমার চোখ কি?

   (মিঠে কড়া কাব্যগ্রন্থ)

সিপাহী বিদ্রোহ (Sipahi Bidroho) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Jobab (জবাব) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) জবাব (Jobab)

আশংকা নয় আসন্ন রাত্রিকে
মুক্তি-মগ্ন প্রতিজ্ঞায় চারিদিকে
হানবে এবার অজস্র মৃত্যুকে;
জঙ্গী-জনতা ক্রমাগত সম্মুখে৷

শত্রুদল গোপনে আজ, হানো আঘাত
এসেছে দিন; পতেঙ্গার রক্তপাত
আনে নি ক্রোধ, স্বার্থবোধ দুর্দিনে?
উষ্ণমন শাণিত হোক সঙ্গীনে৷

ক্ষিপ্ত হোক, দৃপ্ত হোক তুচ্ছ প্রাণ
কাস্তে ধরো, মুঠিতে এক গুচ্ছ ধান৷
মর্ম আজ বর্ম সাজ আচ্ছাদন
করুক : চাই এদেশে বীর উৎপাদন৷

শ্রমিক দৃঢ় কারখানায়, কৃষক দৃঢ় মাঠে,
তাই প্রতীক্ষা, ঘনায় দিন স্বপ্নহীন হাটে৷
তীব্রতর আগুন চোখে, চরণপাত নিবিড়
পতেঙ্গার জবাব দেবে এদেশের জনশিবির॥

জবাব (Jobab) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Ek Je Chilo (এক যে ছিল) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) এক যে ছিল (Ek Je Chilo)

এক যে ছিল আপনভোলা কিশোর,
ইস্কুল তার ভাল লাগত না,
সহ্য হত না পড়াশুনার ঝামেলা
আমাদের চলতি লেখাপড়া সে শিখল না কোনোকালেই,
অথচ সে ছাড়িয়ে গেল সারা দেশের সবটুকু পাণ্ডিত্যকে।
কেমন ক’রে?          সে প্রশ্ন আমাকে ক’রো না।।

বড়মানুষীর মধ্যে গরীবের মতো মানুষ,
তাই বড় হয়ে সে বড় মানুষ না হয়ে
            মানুষ হিসেব হল অনেক বড়।
কেমন ক’রে? সে প্রশ্ন আমাকে ক’রো না।।

গানসাধার বাঁধা আইন সে মানে নি,
অথচ স্বর্গের বাগান থেকে সে চুরি করে আনল
            তোমার আমার গান।
কবি সে, ছবি আঁকার অভ্যাস ছিল না ছোট বয়সে,
অথচ শিল্পী ব’লে সে-ই পেল শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের সম্মান।
কেমন ক’রে ? সে প্রশ্ন আমাকে ক’রো না।।

মানুষ হল না বলে যে ছিল তার দিদির আক্ষেপের বিষয়,
অনেক দিন, অনেক বিদ্রূপ যাকে করেছে আহত;
সে-ই একদিন চমক লাগিয়ে করল দিগ্বিজয়।
কেউ তাকে বলল, ‘বিশ্বকবি’, কেউ বা ‘কবিগুরু’
উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম চারদিক করল প্রণাম।
তাই পৃথিবী আজো অবাক হয়ে তাকিয়ে বলছেঃ
কেমন ক’রে? সে প্রশ্ন আমাকে ক’রো না,
এ প্রশ্নের জবাব তোমাদের মতো আমিও খুঁজি।।

   (মিঠে কড়া কাব্যগ্রন্থ)

এক যে ছিল (Ek Je Chilo) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Dak (ডাক) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) ডাক (Dak)

খে-মৃদু-হাসি অহিংস বুদ্ধের
ভূমিকা চাই না। ডাক ওঠে যুদ্ধের।
গুলি বেঁধে বুকে উদ্ধত তবু মাথা-
হাতে হাতে ফেরে দেনা-পাওনার খাতা,
শোনো হুঙ্কার কোটি অবরুদ্ধের।
দুর্ভিক্ষকে তাড়াও, ওদেরও তাড়াও-
সন্ধিপত্র মাড়াও, দু’পায়ে মাড়াও।
তিন-পতাকার মিনতিঃ দেবে না সাড়াও?
অসহ্য জ্বালা কোটি কোটি ক্রুদ্ধের!

ক্ষতবিক্ষত নতুন সকাল বেলা,
শেষ করব এ রক্তের হোলিখেলা,
ওঠো সোজা হয়ে, পায়ে পায়ে লাগে ঠেলা
দেখ, ভিড় দেখ স্বাদীনতালুব্ধের।

ফাল্গুন মাস, ঝরুক জীর্ণ পাতা।
গজাক নতুন পাতারা, তুলুক মাথা,
নতুন দেয়াল দিকে দিকে হোক গাঁথা-
জাগে বিক্ষোভে চারিপাশে ক্ষুব্ধের।

হ্রদে তৃষ্ণার জল পাবে কত কাল?
সম্মুখে টানে সমুদ্র উত্তালঃ
তুমি কোন্ দলে? জিজ্ঞাসা উদ্দামঃ
‘গুণ্ডা’র দলে আজো লেখাও নি নাম?

ডাক (Dak) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

Prithibir Dike Takao (পৃথিবীর দিকে তাকাও) ~ সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya) -এর একটি জনপ্রিয় বাংলা কবিতা (Bangla Kobita) পৃথিবীর দিকে তাকাও (Prithibir Dike Takao)

দেখ, এই মোটা লোকটাকে দেখ
        অভাব জানে না লোকটা,
যা কিছু পায় সে আঁকড়িয়ে ধরে
        লোভে জ্বলে তার চোখটা।
মাথা উঁচু করা প্রাসাদের সারি
        পাথরে তৈরি সব তার,
কত সুন্দর, পুরোনো এগুলো!
        অট্রালিকা এ লোকটার।
উঁচু মাথা তার আকাশ ছুঁয়েছে
        চেয়ে দেখে না সে নীচুতে,
কত জামির যে মালিক লোকটা
        বুঝবে না তুমি কিছুতে।
দেখ, চিমনীরা কী ধোঁয়া ছাড়ছে
        কলে আর কারখানাতে,
মেশিনের কপিকলের শব্দ
        শোনো, সবাইকে জানাতে।
মজুরেরা দ্রুত খেটেই চলেছে-
        খেটে খেটে হল হন্যে ;
ধনদৌলত বাড়িয়ে তুলছে
        মোটা প্রভুটির জন্যে।
দেখ একজন মজুরকে দেখ
        ধুঁকে ধুঁকে দিন কাটছে,
কেনা গোলামের মতই খাটুনি
        তাই হাড়ভাঙা খাটছে।
ভাঙা ঘর তার নীচু ও আঁধার
        স্যাঁতসেঁতে আর ভিজে তা,
এর সঙ্গে কি তুলনা করবে
        প্রাসাদ বিশ্ব-বিজেতা?
কুঁড়েঘরের মা সারাদিন খাটে
        কাজ করে সারা বেলা এ,
পরের বাড়িতে ধোয়া মোছা কাজ-
        বাকিটা পোষায় সেলায়ে।
তবুও ভাঁড়ার শূন্যই থাকে,
        থাকে বাড়ন্ত ঘরে চাল,
বাচ্চা ছেলেরা উপবাস করে
        এমনি করেই কাটে কাল।
বাবু যত তারা মজুরকে তাড়া
        করে চোখে চোখে রাখে,
ঘোঁৎ ঘোঁৎ ক’রে মজুরকে ধরে
        দোকানে যাওয়ার ফাঁকে।
খাওয়ার সময় ভোঁ বাজলে তারা
        ছুটে আসে পালে পাল,
খায় শুধু কড়কড়ে ভাত আর
        হয়তো একটু ডাল।
কম-মজুরির দিন ঘুরে এলে
        খাদ্য কিনতে গিয়ে
দেখে এ টাকায় কিছুই হয় না,
        বসে গালে হাত দিয়ে।
পুরুত শেখায়, ভগবানই জেনো প্রভু
(সুতরাং চুপ; কথা বলবে না কভু)
সকলেরই প্রভু- ভালো আর খারাপের
তাঁরই ইচ্ছায় এ; চুপ করো সব ফের।
শিক্ষক বলে, শোন সব এই দিকে,
চালাকি ক’রো না, ভালো কথা যাও শিখে।
এদের কথায় ভরসা হয় না তবু?
সরে এসো তবে, দেখ সত্যি কে প্রভু।
ফ্যাকাশে শিশুরা, মুখে শাস্তির ভীতি,
আগের মতোই মেনে চলে সব নীতি।
যদি মজুরেরা কখনো লড়তে চায়
পুলিশ প্রহারে জেলে টেনে নিয়ে যায়।
মজুরের শেষ লড়াইয়ের নেতা যত
এলোমেলো সব মিলায় ইতস্তত-
কারাপ্রাচীরের অন্ধকারের পাশে।
সেখানেও স্বাধীনতার বার্তা আসে।
রাশিয়াই, শুধু রাশিয়া মহান্ দেশ,
যেখানে হয়েছে গোলামির দিন শেষ;
রাশিয়া, যেখানে মজুরের আজ জয়,
লেনিন গড়েছে রাশিয়া! কী বিস্ময়!
রাশিয়া যেখানে ন্যায়ের রাজ্য স্থায়ী,
নিষ্ঠুর ‘জার’ যেই দেশে ধরাশায়ী,
সোভিয়েট-‘তারা’ যেখানে দিচ্ছে আলো,
প্রিয়তম সেই মজুরের দেশ ভালো।
মজুরের দেশ, কল-কারখানা,
প্রাসাদ, নগর, গ্রাম,
মজুরের খাওয়া মজুরের হাওয়া,
শুধু মজুরের নাম।
মজুরের ছুটি, বিশ্রাম আর
গরমে সাগর-ধার,
মজুরের কত স্বাধীনতা! আর
অজস্র অধিকার।
মজুরের ছেলে ইস্কুলে যায়
জ্ঞানের পিপাসা নিয়ে,
ছোট ছোট মন ভরে নেয় শুধু
জ্ঞান-বিজ্ঞান দিয়ে।
মজুরের সেনা ‘লাল ফৌজ’ দেয়
পাহারা দিন ও রাত,
গরীবের দেশে সইবে না তারা
বড়লোকদের হাত।
শান্ত-স্নিগ্ধ, বিবাদ-বিহীন
জীবন সেখানে, তাই
সকলেই সুখে বাস করে আর
সকলেই ভাই-ভাই;
এক মনেপ্রাণে কাজ করে তারা
বাঁচাতে মাতৃভূমি,
তোমার জন্যে আমি, সেই দেশে,
আমার জন্যে তুমি।।

   (মিঠে কড়া কাব্যগ্রন্থ)

পৃথিবীর দিকে তাকাও (Prithibir Dike Takao) কবিতাটি ছাড়াও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (Sukanta Bhattacharya)-এর অন্যান্য কবিতা,গল্প পড়তে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করুন।