মাটির সন্তান
-

শেয়ার করুন

আমি এই মাটিরই গন্ধে বড় হওয়া মানুষ,

নদীর স্রোতে ভেসে আসা আমার পূর্বপুরুষের নিঃশ্বাস।

ব্রহ্মপুত্রের ঢেউয়ে লেখা আছে আমার নাম,

এই আকাশই আমার স্বপ্নের ছাদ।

 

তুমি আমাকে নামে ডাকো, অপমানে ঠেলো,

কিন্তু ইতিহাসে আমার শ্রমের ঘাম শুকায়নি।

চরের বালিতে ফসল ফলিয়েছি আমি,

বন্যার জলে ভেসেও দাঁড়িয়ে থেকেছি অবিচল।

 

আমি মিয়া—এই শব্দে লুকায় না লজ্জা,

লুকিয়ে আছে সংগ্রাম, বেঁচে থাকার গান।

ভাষা আমার ভিন্ন হতে পারে,

কিন্তু হৃদয়ের ধ্বনি এই অসমের সাথেই বাঁধা।

 

তোমার ঘৃণা আমার পরিচয় বদলাতে পারে না,

কারণ মাটি আমাকে চিনে, নদী আমাকে চেনে।

যে বাতাসে তুমি শ্বাস নাও,

সেই বাতাসেই আমার শিশুরা বড় হয়।

 

অপমানের শব্দ যখন কানে বাজে,

আমি মনে করি ধানের শীষের নীরব শক্তি।

মাথা নত নয়, মাথা উঁচু করেই বাঁচি,

কারণ আত্মসম্মানই আমার আসল পরিচয়।

 

আমরা কারও শত্রু নই, কারও বোঝা নই,

আমরা এই ভূমিরই পরিশ্রমী সন্তান।

বিভেদের দেয়াল যতই উঁচু হোক,

মানবতার পথ ততই প্রশস্ত হবে।

 

তোমার তিরস্কার আমার গান থামাতে পারবে না,

আমার কণ্ঠে থাকবে সত্যের দৃঢ়তা।

আমি মিয়া, আমি অসমীয়া, আমি মানুষ—

এই তিন শব্দেই আমার গৌরব।

 

একদিন ঘৃণার বদলে হাত বাড়বে,

আর তখন তুমি দেখবে—আমরা সবাই একই মাটির।


শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন