নিরুচ্চারণের নিকেতন
- অভিজিৎ হালদার

শেয়ার করুন

আলোকপিছনে হেঁটে যায় এক ছায়াভাষী চিত্রলোক

তার মুখে নেই পরিচয়ের ধ্বনি

শুধু নীরাংশু গীতবিন্দু ঝরে পড়ে রোজ—

জন্ম হয় অর্থহীন অথচ অবিনশ্বর বাণী।

 

পাহাড়পিঠে দাঁড়িয়ে আছে মেঘচূড়া চিন্তাধার

তার বুকজুড়ে বয়ে যায় ঘুমঘোরী জিজ্ঞাসা

নদী তাকে ঘিরে গায় অন্তঃপ্রেমের অপ্রকাশ্য গান 

তার জলে মিশে থাকে স্বপ্ননগ্ন স্তব্ধতা।

 

পাখিরা উড়ে যায় নিষ্করণ দিগন্তে

তারা খুঁজে ফেরে আলোকস্নাত অনুপলব্ধি

অথচ আকাশ বলে—

আমি শুধু নীলনিঃস্ব…

 

দিগন্তে ফুটে ওঠে আলোকান্ধকারের অর্ঘ্য

যেখানে শব্দ মানে শুধু স্পন্দনলীন ছায়াছায়া

তুমি খুঁজে ফিরো অপ্রকাশিত গহনবর্ণ

যার রঙে নেই কোনো নাম, নেই কোনো ঘর।

 

একটু দূরে দাঁড়িয়ে রসহীন রাত্রিভাষা

তার ঠোঁটে আটকে আছে দীর্ঘশ্বাসলিপি

এক একটি নিঃশ্বাসে জন্ম নেয়

বেদনাঋদ্ধ বর্ণপরিচয়।

 

গভীরতায় নামে নিস্তরঙ্গ নৃত্যবীজ

চেতনার ছায়ায় ছড়িয়ে পড়ে

বিষাদঝলমল পরিভাষা—

যা কবিতার বই নয়

বোধের অলিখিত শিলা।

 

তুমি যদি স্পর্শ করো এই পঙ্‌ক্তিগুলো

তবে শুনতে পাবে এক অনাহুত অলিন্দস্বর

যা বলে—

আমি শুধু কবিতা নই

আমি সেই নীরব আত্মঘাতী প্রতিধ্বনি

যা শব্দ হতে গিয়েও থেমে যায়

ভাষাহীনতার অন্তস্তলে।।

 

 


শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন