আত্মকথা
এস. এন. রাসেল
সচেতন ছাত্রনেতা, সংগ্রামী কণ্ঠস্বর, ন্যায় ও রাজপথের যোদ্ধা।আমি এস. এন. রাসেল। সচেতন ছাত্র হিসেবে সবসময়ই ছাত্র–জনতার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে পাশে থেকেছি, আছি, এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমে খুব দ্রুতই উপলব্ধি করি—একা লড়াই করে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি আদর্শভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রকৃত সুযোগ থাকবে।প্রথম জীবনে এক সময় ইসলামী রাজনৈতিক একটি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমার ছোটমামা ঐ দলের নেতা ছিলেন, তাই প্রায়শই তাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ হতো। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারি—তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করলেও মূলত একটি বিকৃত, গোঁড়া ও তালেবানি ধাঁচের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসলামের ন্যায্যতা, নৈতিকতা বা মানবিকতার স্পর্শ সেখানে নেই। ফলে সেখান থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করি। ঐ সংগঠনে আমি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ক্যাম্পাস পর্যায় পর্যন্ত সহ-সভাপতি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলাম। এরপর দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে থেকে নিজেকে আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে নতুন দিশা খুঁজতে থাকি।অপেক্ষায় ছিলাম এমন এক রাজনৈতিক শক্তির, যারা জনগণের মৌলিক অধিকার, শোষিত–নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলবে। ঠিক সেই সময়, ২০১৮ সালে শুরু হয় ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য আন্দোলনে যুক্ত হই। নূরুল হক নূর ভাইয়ের বক্তব্য, সাহসিকতা ও যুক্তিনির্ভর নেতৃত্ব আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।পরবর্তীতে যখন নূর ভাই, হাসান আল মামুন ভাইসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গঠন করেন, তখন সেই সংগঠনে যোগদানের পথ খুঁজতে থাকি। এক ভাই রাফির মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার তৎকালীন সভাপতি আবদুস সালাম ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সালাম ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে আমাকে সংগঠনের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমে উপজেলা, পরে মহানগর এবং সর্বশেষ কুমিল্লা জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।আন্দোলনের প্রতিটি স্তরে আমি সক্রিয় ছিলাম—২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, মুদি বিরোধী আন্দোলন, এবং ২০২৪ সালের ৩৬শে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি ন্যায়ভিত্তিক সংগ্রামে আমি রাজপথে ছিলাম। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ৩৬শে জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার সময়ও আমরা কুমিল্লা জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে সবার আগে সংহতি ঘোষণা করি এবং সাধারণ ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে, কেন্দ্রীয় সভা-সমাবেশে, প্রতিনিধি সম্মেলনে এবং জেলার মাঠপর্যায়ের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছি দৃঢ়তার সঙ্গে। জুলাই বিপ্লবের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল—টাকা, গাড়ি, পদ, টেন্ডার—সবই। কিন্তু আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ আমি রাজনীতি করি জনগণের জন্য, ব্যক্তিস্বার্থের জন্য নয়।স্বৈরাচারের দালাল ও প্রভাবশালী এক সাবেক এমপি আমার ওপর একাধিকবার আক্রমণ চালিয়েছে, ঘরবন্দী করেছে, প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এমনকি বিদেশ যাওয়ার আগে পাসপোর্ট করতে গিয়েও তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছি, আহত হয়েছি, লুটপাটের শিকার হয়েছি। এরপরও পিছিয়ে যাইনি—শুধু একটু সময় নিয়ে বিদেশে আশ্রয় নেই, এই ভেবে যে বেঁচে থাকলে রাজনীতি করা যাবে, মরে গেলে নয়।প্রবাসে থেকেও আমি আন্দোলন ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি কুমিল্লা–৬ আসনের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সাংবাদিক রাশেদুল হক রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে। তাঁর সহযোগিতায় পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে দেশে ফিরে আবার রাজনীতির মাঠে সরাসরি সক্রিয় হই।আজ আমি বিশ্বাস করি—সৎ ও ন্যায়ের পথে থাকা-ই প্রকৃত রাজনীতি। আমি পদ, টাকা বা প্রলোভনের রাজনীতি করি না। আমার একটাই লক্ষ্য—জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আমি এস. এন. রাসেল—ছাত্র জনতার কণ্ঠস্বর, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নূরুল হক নূর ভাইয়ের একজন আদর্শে আদর্শিত সৈনিক, এবং আজীবন জনগণের রাজনীতির একজন কর্মী হতে চাই।
নিজ খরচে এখনো শিক্ষার্থী বান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। যেমন ক্যাম্পাস ভিত্তিক শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উপহার, পরিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নিজ উদ্যোগে গাড়ি ভাড়া ইত্যাদি। ভবিষ্যতে ও আমার সাধ্য মতো করে যাবো ইনশাআল্লাহ। সেই সাথে আমার প্রানপ্রিয় সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দদের কে ও আহবান করছি আপনারা আপনাদের সাধ্য মতো স্ব স্ব ইউনিটের আওতাধীন শিক্ষার্থীদের পাশে সেবা প্রদানে আরো বেশি সংযুক্ত থাকবেন। ১৮ ও ২৪ এর চেতনাকে বুকে ধারণ করে আরোবেশি জনগনের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। নূরভাইয়ের হাতকে শক্তিশালী করবেন।
পরিশেষে একটি কথাই বলবো হাজার কিছুর বিনিময়ে হলে ও দলীয় মতাদর্শের সাথে কাজ করে যাবো। প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিবো তবুও সংগঠন এবং নূর ভাইয়ের হাতকে শক্তিশালী করে তুলবো। জয় হোক ন্যায়ের পক্ষে; জয় হোক জনতার!!!
জনতার অধিকার আমাদের অঙ্গিকার
আমাদের অঙ্গিকার দেশ হবে জনতার।
“““বর্ণহীনা মেয়ে “““` এস.এন শাহাদাৎ হোসেন রাসেল ________________________ চলে যদি যাবে কেনো আসলে আমার এ জীবনে তোমাকে নিয়ে কত্তো যে স্বপন একেঁছি এমনে। জানতাম যদি …
হয়তো আমি হাড়িয়ে যাবো কিছু প্রিয়াত্নাদের মনোপালি থেকে, হয়তো আমি হাড়িয়ে যাবো এই ভার্চ্যুয়ালের গন্ডি থেকে। অভিমানের ঝার্রা গুলো জমতে জমতে আজ হয়েছে বিশাল একটা …