আবেগপ্রবণ মানুষের শেষ স্টেশন
- মোহাম্মদ রিফাত মন্ডল

শেয়ার করুন

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হলো স্বার্থপর মানুষ।

যে নিজের জন্যই আপ্রাণ সংগ্রাম করে সুখী হয়,

কারো চোখের দিকে তাকায় না, চোখের ভাষা বোঝে না।

মুখের দিকে তাকায় না, তাই তো কারো মায়ায় পড়ে না।

কারো মায়া, একাকিত্ব, নিঃসঙ্গতা তাকে থামাতে পারে না।

যেমন করে একজন দুস্থ মানুষ সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে।

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসতেই দুচোখে নেমে আসে ঘুম।

অথচ বাড়িতে ক্ষুধা আছে, কিন্তু খাবার নেই;

ঘুম আছে, কিন্তু বিছানা নেই।

তবুও এসব কিছুই তাকে ঘুম থেকে থামাতে পারে না।

​অপরদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী মানুষ হলো আবেগপ্রবণ মানুষ,

যার সুখ বলতে যেন কিছুই নেই।

যার জীবনটা মেলার কোনো শোর দশ টাকার টিকিটের মতো—

না দেখলেও যেন তেমন কোনো ক্ষতি নেই।

এই মানুষটা জ্বলে-পুড়ে যায়,বেলা শেষে তার স্থান হয়

ময়মনসিংহের সেই পুরনো রেলের বগির মতো।

যে একসময় চলত দেশ থেকে দেশান্তরে,

তার উপর চড়ত কত মানুষ!

কত ফটোগ্রাফার তার ছবি তুলে

কত নাম কামিয়েছে,

কত কবি তার জানালার ধারে বসে

কত কবিতা লিখে খ্যাতিমান হয়েছে— কে জানে তা!

​তবু বেলা শেষে সেই ট্রেন

স্টেশনের এক পাশে নিথর হয়ে পড়ে থাকে, 

তার গায়ে ধরে জং।

সেই জং নিয়েই একদিন তার সমাপ্তি হয়।

তেমনই আবেগপ্রবণ মানুষের বেলাতেও—

সবাই তার মনে জায়গা করে নেয়,

তার ভালোবাসার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে

ব্যবহার করে যায়।

বেলা শেষে সেও এক সমুদ্র দুঃখ বুকে নিয়ে

তার জীবনের সমাপ্তি টানে।

তাই বলা যায়—

আবেগপ্রবণ মানুষ কখনো সুখী হয় না,

কখনো না।


শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন