জন্মের আগে হয়তো আমি হতে চেয়েছিলাম কোনো কৃষকের হালের বলদ—
যে নিজের শরীরের শক্তি দিয়ে
অন্যের জমিতে ফসল ফলায়,
অথবা কোনো অসহায় বিধবার একমাত্র সম্বল দুধেল গাই—
যার শরীরেই একটি ঘরের আগামীকাল বাঁধা থাকে।
তারও আগে হয়তো হতে চেয়েছিলাম
কোনো কিশোরের প্রথম প্রেম,
অথবা যৌবনের কোনো রমণীর প্রথম ভুল—
যে ভুল একদিন স্মৃতি হয়ে
তার একান্ত গোপন দুঃখের নাম হবে।
তারও আগের আগে
আমি হয়তো হতে চেয়েছিলাম
শহুরে প্রহরীর ঘুম-ঘুম চোখ—
যে জেগে থাকার দায়ে
নিজের ঘুমটুকুও হারিয়ে ফেলে;
অথবা শহুরে পাপ্পাস প্রিন্সেসের
পার্সিয়ান বিড়াল—
যার ক্ষুধা, আদর, অভিমান
সবকিছুরই একজন মালিক আছে।
জন্মের পর
আমি হলাম তোমাদের সমাজের আবাল প্রেমিক—
ভাতের আগে তোমাদের মতোই প্রেম চাইলাম,
আর বিনিময়ে পেলাম ভাতের ছাই।
ভুলক্রমে তোমাদের মতোই চেয়েছিলাম
প্রেমিকার ঠোঁটের আগুনে
রাতের শেষ বিড়িটা জ্বালাতে।
আগুনটাকে ভেবেছিলাম উষ্ণতা,
অথচ সে তো আগুনই ছিল—
তারপর, বিড়ি পুড়ল, হাত পুড়ল, রাত পুড়ল,
পুড়ল আমার অপেক্ষা।
আমি প্রেমিক হতে চেয়েছিলাম,
হলাম দুঃখের একজন আজীবন শ্রমিক;
আর প্রেয়সীর ঠোঁটের আগুনে
শেষ বিড়িটা জ্বালাতে গিয়ে
ভুল করে জ্বালিয়ে ফেলেছি
আমারই রূহ।
